নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে শহীদ সমাধিতে স্বজনদের পুষ্পস্তবক অর্পণ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২০

নোয়াখালীতে একাত্তরের রণাঙ্গনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। ৪ সেপ্টেম্বর ছিল কোম্পানীগঞ্জ রণাঙ্গনে শহীদ দিবস।

দিবসটিকে ঘিরে এই রণাঙ্গনে উল্লেখযোগ্য শহীদ আমানউল্লাহ ফারুক পরিবার ও শহীদ সালেহ আহমেদ মজুমদার পরিবার এবং স্বজনদের আয়োজনে সকাল ৯ টায় ও ১১টায় পর্যায়ক্রমে উপজেলার সাবেক রামপুর বন্যা বেড়ীবাঁধের ১৫ নং স্লুইস গেট বর্তমান আমান উল্লাহ নগরে শহীদ আমান উল্লাহ রণাঙ্গনে আমানউল্লাহর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পরবর্তীতে একই এলাকায় ১৬ নং বন্যা বেড়িবাঁধে সাবেক চর ফকিরা বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে অবস্থিত শহীদ সালেহ আহমদ মজুমদার , শহীদ আক্তারুজ্জামান লাতু, শহীদ মোহাম্মদ ইসমাইল এর সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে পরিবার ও স্বজনগন পৃথক পৃথকভাবে সমাধিতে দোয়া মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। দোয়া মোনাজাত শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন,সেদিনের রণাঙ্গনে গুলি খেয়ে বেঁচে যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নাসের, শহীদ স্বজন সাংবাদিক ফারুক আল ফয়সাল, শহীদের ছোট ভাই মোঃ সাইফুল্লাহ চৌধুরী ফয়সাল, মোঃ ওবায়দুল্লাহ চৌধুরী আরিফ। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট অবস্থিত শহীদদের স্মরণে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, যুদ্ধকালীন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত ও শহীদ সালেহ আহমেদ মজুমদারের আপন চাচাতো ভাই আবুল কালাম মজুমদার।

আলোচনা শেষে শহীদ স্বজন আমান উল্লাহর নামে নামাকরনে আমান উল্লাহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চর ফকিরা মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে মুক্তিযোদ্ধাগণের নামে প্রতিষ্ঠিত এ এস আই উচ্চ বিদ্যালয় ঘুরে দেখেন।

উল্লেখ্য ১৯৭১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ রণাঙ্গনে বন্যা বেড়িবাঁধের ১৫ ও ১৬ নং স্লুইস গেট হানাদার মিলিশিয়া ও রাজাকার বাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে মুখোমুখি যুদ্ধে শহীদ হন যথাক্রমে, বর্তমান সোনাইমুড়ীর অম্বরনগরের কৃতি সন্তান আমান উল্লাহ ফরুক, সালেহ আহমেদ মজুমদার, আক্তারুজ্জামান লাতু এবং কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাটের মোঃ ইসমাইল, সোনাপুর লামচি প্রাসাদের আব্দুর রব বাবু, মুসাপুরের কামাল পাশা বুলু সহ আরো তিনজন স্থানীয় লোক সেদিন রণাঙ্গনে শহীদ হন।

স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণের আন্তরিক সহযোগিতায় ও সরকারের সদ ইচ্ছায় এস্থানে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে শহীদদের সমাধিস্থল। যাহা আজ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণীয়-বরণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।