গজারিয়া থানার কদমতলী গ্রামের সুরুজ বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ

মারুফ সরকার ,ঢাকা : দেশে সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদের যথেচ্ছ ব্যবহার বাড়াচ্ছে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ ও ‘মিথ্যা মামলা’র হার। ফৌজদারি কার্যবিধিতে এক সময় মামলা রুজুর আগে যাচাই-বাছাইয়ের বিধান থাকলেও সেটি বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এখন যেকোনো ব্যক্তি যে কারো বিরুদ্ধে ঠুকে দিতে পারছে মামলা। পরে এ মামলা ‘মিথ্যা’ ও ‘উদ্দেশ্যমূলক’ প্রমাণিত হলেও মামলার প্রতিপক্ষ ফেরত পান না তার ভোগান্তি ও ব্যয়িত।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে ১৫ হাজার ২১৯টি, ২০১৬ সালে ১৬ হাজার ৭৩০টি, ২০১৫ সালে ১৯ হাজার ৪৮৬টি, ২০১৪ সালে ১৯ হাজার ৬১৩টি, ২০১৩ সালে ১৮ হাজার ৯১টি, ২০১২ সালে ১৯ হাজার ২৯৫টি এবং ২০১১ সালে ১৯ হাজার ৬৮৩টি। কিন্তু পুলিশি তদন্তে মামলাগুলোর ৯০ শতাংশই ভুয়া প্রমাণিত হয় ।

এমনি একটি মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার কদমতলী গ্রামের শামসুল হক প্রধান, ঘটনার বিবরণীতে জানা যায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের সুরুজ মিয়া বাহিনী শামসুল হক প্রধানের ভাই ও ভাইয়ের ছেলেদের দাঁড়ালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আহত করে, এই ঘটনায় শামসুল হক প্রধান বাদী হয়ে স্থানীয় গজারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, গজারিয়া থানার মামলা নং – ১৫ তারিখ – ১৩/১১/১৯ ইং ধারা – ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৮০/৪২৭/১১৪/৫০৬ দঃ বিঃ রুজু করা হয় । উক্ত মামলায় বিবাদী সুরুজ মিয়া গং জামিনে এসে তার মেয়ের জামাইর কর্মচারীর স্ত্রীকে দিয়ে বাদী শামসুল হকের বিরুদ্ধে ঢাকা মেজিস্ট্রেট কোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল -৩ এ একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, এই মামলায় উক্ত শামসুল হক প্রধান প্রায় ৪ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান, সবচেয়ে মজার বিষয় হলো ধর্ষণ মামলায় বলা হয় ঢাকা শ্যামপুর থানার বাদশার ম্যাসে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করা হয় কিন্তু ধর্ষিতা আত্মরক্ষার জন্য কোনো চিৎকার করেনি, আবার ১ নং সাক্ষী বলেছেন ঘটনা তার সামনে ঘটেছে, ২ নং সাক্ষী বলেছেন ঘটনার সময় ধর্ষিতার চিৎকারে আমরা গ্রামবাসী দৌড়ে আসি, বিষয় হলো ঘটনা ঘটে শহরে এখানে গ্রামবাসী দৌড়ে এলো কিভাবে, আবার ১ নং সাক্ষী বলেছেন ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন, আবার ধর্ষিতা বলেছেন ঘটনার সময় আশেপাশে কেউ ছিল না কিন্তু আমরা জানি ম্যাসে সব সময় মানুষ যাতায়াত থাকে কিন্তু সেদিন কেনো কেউ ছিলনা ? মূলত বিষয় হলো শামসুল প্রধান জার বিরুদ্ধে মামলা করেছে তার মেয়ের জামাইর কর্মচারীর বউকে দিয়ে বাদী বানিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন শামসুল হক প্রধানের বিরুদ্ধে, এই ঘটনায় উল্লেখিত ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায় শ্যামপুর থানা এলাকায় এই ঠিকানায় বাদশার ম্যাস বলতে কোনো কিছু নেই, ওই এলাকার স্থানীয় ও সাধারণ মানুষ জানায় এমন ঘটনা ঘটবে দূরের কথা বাদশার ম্যাস বলতে এখানে কিছু নেই হয়তো বা বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শামসুল হক প্রধানের গ্রামের বাড়ি অনুসন্ধান করতে গেলে আলমগীর হোসেন নামের একজন এলাকাবাসী জানান শামসুল হক সাদা সিধে মানুষ, সে গ্রামের মানুষ, ঢাকার কোনো কিছু চিনে বলে আমাদের মনে হয়না, এই বয়স্ক মানুষ কিভাবে ঢাকা গিয়ে ৪/৫ জন মানুষের সামনে একটা মহিলাকে ধর্ষণ করলো, যখন এতো গুলো মানুষের সামনে ধর্ষন করলো তখন তাদের ভূমিকা কি ছিলো, সাক্ষীতে যার নাম বলা আছে সে শামসুল হক প্রধানের মামলার আসামি, এটা একটা মিথ্যা মামলা গ্রামের এই সহজ সরল মানুষটি মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার। ভুক্তভোগী শামসুল হক বলেন আমি একটি মামলার বাদী তাই আসামি সুরুজ মিয়ার মেয়ের জামাই সাক্ষী হয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর বউকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করেছে, আমি এবিষয়ে প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, উচ্চ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ন্যায় বিচারে জন্য যাবো । শামসুল হক প্রধানের মামলার আসামি সুরুজ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান শামসুল হক প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে জেল খেটেছে শুনেছি, আপনার বিরুদ্ধে মামলা করায় আপনার মেয়ের জামাই সাক্ষী হয়ে মিথ্যা মামলা করেছে এমন অভিযোগ রয়েছে ? সুরুজ মিয়া প্রশ্নের জবাবে জনান আমাদের চাচাতো ভাইদের মধ্যে মারামারি হয়েছে শামসুল হক প্রধান আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে এটা আমাদের বিষয় কিন্তু আমার মেয়ের জামাই যদি কাউকে দিয়ে শামসুল হক প্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে থাকে এটা ঠিক হয়নি, তবে আমার মেয়ের জামাইকে বলবো মামলাটি যেনো প্রত্যাহার করা হয়, অন্য দিকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় হয়রানির শিকার শামসুল হক প্রধান জানান আমার মামলার আসামি ও তার মেয়ের জামাই প্রতিনিয়ত আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে আবার নতুন করে বিভিন্ন জেলায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে আমাকে ফাঁসিয়ে দেয়া হবে, আমি বর্তমানে মিথ্যা মামলার আতঙ্ক ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ।