করোনার কারণে পৃথিবী কাঁপছে কম, পরিষ্কার বাতাস সমুদ্রও শান্ত

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২০

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি মানুষ এখন ঘরে বসে আছেন।

এর ফলে বদলে গেছে পৃথিবী। কারণ মানুষ বের হচ্ছে না বাইরে। গাড়ি-ট্রেন চলছে খুবই কম, লাখ লাখ ভারি শিল্প-কারখানা এখন বন্ধ। এর ফলে, ভূ-পৃষ্ঠের ওপর চাপ কমে গেছে অনেক। ফলে পৃথিবী কাঁপছে কম।

পৃথিবীর ওজন ছয় বিলিয়ন ট্রিলিয়ন টন। সেই বিবেচনায় এই পরিবর্তন বিস্ময়কর। বর্তমান থমকে থাকা পৃথিবীর বেশকিছু পরির্তনের তথ্য জানা যাক। চলুন জেনে আসি করোনার সময়ের পৃথিবীর পরিবর্তন।

নাটকীয় পরিবর্তন : পৃথিবীর কাঁপুনি যে কমে গেছে তা প্রথম লক্ষ্য করেন বেলজিয়ামের রয়্যাল অবজারভেটরির বিজ্ঞানীরা। তারা বলেন- ‘লকডাউনের আগের তুলনায় ১-২০ হার্টস ফ্রিকোয়েন্সিতে (বড় একটি অর্গানের আওয়াজের যে ফ্রিকোয়েন্সি) ভূ-পৃষ্ঠের দুলুনি এখন অনেক কম। নেপালের ভূকম্পবিদরা একই প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। প্যারিস ইন্সটিটিউট অব আর্থ ফিজিক্সের একজন গবেষক বলেছেন, ফ্রান্সের রাজধানীতে ভূকম্পন ‘নাটকীয় মাত্রায়’ কমে গেছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস শহরে কাঁপুনি কমে যাওয়ার মাত্রা দেখে বিস্মিত হয়েছেন ক্যাল টেক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

পরিষ্কার বাতাস, শান্ত সমুদ্র : লকডাউনে শুধু ভূমিকম্প কমেছে তা নয়, বদলে গেছে পৃথিবীর প্রকৃতি। স্যাটেলাইটের চিত্রে দেখা গেছে, পরিবেশ দূষণের পেছনে যার বড় ভূমিকা রয়েছে সেই নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাস বাতাসের পরিমাণ অনেক কম। কারণ গাড়ির ধোঁয়া, কারখানার ধোঁয়া এখন অনেক কম। একারণে বাতাস দূষিত হচ্ছে না।জ্ঞানীরা শব্দদূষণ মাপেন বা মহাসাগরের শব্দ নিয়ে গবেষণা করেন, তারা একবাক্যে বলছেন, পৃথিবীতে আওয়াজ এখন অনেক কম।

পরিষ্কার সিগন্যাল : পৃথিবীর কম্পন কমলেও একদম যে স্থির হয়ে গেছে তা বলা যাবে না। তবে গতিবিধির এই পরিবর্তনে উৎসাহিত হয়ে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। যা মানুষের চলাফেরার জন্য পর্যবেক্ষণ অনেকটা কঠিন। সেটা এখন অনায়াশে করা যাচ্ছে। ভূপৃষ্ঠ ৭০কিমি পুরু। তারপরও মানুষের গতিবিধিতে এটি কাঁপে। সব সিগন্যালের ডেটা বিশ্লেষণ এখন সহজতর হচ্ছে -বলছিলেন ওয়াশিংটনে ইনকর্পোরেটেড রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর সিসমোলজির বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি ফ্রাসেটো।

মৌসুমি পরিবর্তন : তবে শব্দ এবং ভূকম্পনের ওঠা-নামা একদম নতুন কিছু নয়। বছরের একেক সময়, দিনের একেক সময় মানুষের গতিবিধি বাড়ে-কমে। উৎসব চলাকালীন বা ছুটি চলাকালীন শব্দ বা ভূ-পৃষ্ঠের দুলুনি কমে যায়। তেমনি দিনের চেয়ে রাতের বেলা এগুলো কমে যায়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা পৃথিবীব্যাপী কয়েক সপ্তাহ বা কোথাও কোথাও মাসজুড়ে মানুষের গতিবিধি অনেকটা কম। আর তাতে পৃথিবীর ওপর যে চাপ কমেছে তার নজির বিরল। সূত্র: বিবিসি